বাইক স্টার্টিং সমস্যা?

Image
Application বাইক বাজার Bike Bazar
User Mushfiqur Rahman
Title বাইক স্টার্টিং সমস্যা?
Created 7/13/19, 10:56 AM
Modified 7/3/20, 5:03 PM
Status Yes

Descr

বাইক চালাতে চালাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্টার্ট না হওয়া অতি সাধারণ একটি সমস্যা। বাইক চালিয়ে এই সমস্যায় পরেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এ ধরণের সমস্যা হওয়ার কারণ কি এবং সমাধান কীভাবে করবেন তা জানার আগে আপনাকে জানতে হবে একটি বাইক স্টার্ট হয় কীভাবে এবং কি কি যন্ত্রাংশ এতে ব্যবহৃত হয়।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশঃ

১। পর্যাপ্ত তেল (পেট্রোল/অক্টেন)

২। স্পার্ক প্লাগ

৩। স্টার্টার মোটর

৪। ব্যাটারি

৫। স্টার্টার রিলে এবং ফিউজ

এই পাঁচটি জিনিস ঠিক না থাকলে আপনার বাইক স্টার্ট হবে না। ইগনিশন অন করার পর কার্বুরেটর/ফুয়েল ইঞ্জেকটরে পেট্রোল সাপ্লাই হয় এবং সেলফ স্টার্টার বা কিক দেয়ার পর স্পার্ক প্লাগ থেকে ফুলকি এসে সেই পেট্রোল পুড়িয়ে স্টার্টার মোটরকে ঘোরায়। এভাবেই একটি বাইক স্টার্ট হয়।

এবার আসা যাক যদি বাইক স্টার্ট না হয় তাহলে কি করণীয়। প্রথমে স্টার্ট না হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। সম্ভাব্য কারণ গুলো ও এর সমাধান নিম্নরূপঃ

১। প্রথমেই দেখতে হবে বাইকে ফুয়েল আছে কিনা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি একটি অন্যতম এবং সাধারণ কারণ। ফুয়েল না থাকলে ফুয়েলের ব্যবস্থা করতে হবে।

২। দ্বিতীয় সম্ভাব্য কারণ হতে পারে ঠিক মত স্পার্ক না পাওয়া। স্পার্ক প্লাগ ঠিক মত লাগানো আছে কিনা চেক করুন এবং প্রয়োজনে খুলে পরিষ্কার করুন। গ্যাপ ছোট বা বড় হয়ে গেলে পরিবর্তন করুন। কার্বন ডিপোজিট হলে স্যান্ড পেপার (শিরিষ কাগজ) দিয়ে হালকা করে ঘষে পরিষ্কার করুন।

৩। সেলফ স্টার্টার রেসপন্স না করলে দেখুন ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত চার্জ আছে কিনা। কিক দিয়েও স্টার্ট না হলে স্টার্টার ফিউজ চেক করুন। একটি অতিরিক্ত ফিউজ সাথে রাখলে এ ধরণের সমস্যা থেকে সহজেই নিস্তার পাওয়া সম্ভব।

৪। কিক স্টার্টার না থাকলে কারও সাহায্য নিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাইক স্টার্ট করার চেষ্টা করুন। ২য় বা ৩য় গিয়ারে রেখে বাইকে উঠে বসুন এবং ক্লাচ চেপে ধরুন। কাউকে বলুন পেছন থেকে ধাক্কা দিতে। রানিং অবস্থায় ক্লাচ ছেড়ে দিন এবং স্টার্ট হওয়া মাত্র আবার চেপে ধরার জন্য প্রস্তুত থাকুন। যদি সাহায্য করার মত কেউ না থাকে থাকলে বাইক সেন্টার স্ট্যান্ডে রেখে নিজেই চেষ্টা করুন। ৩য় বা ৪র্থ গিয়ারে রেখে পেছনের চাকা জোরে সামনের দিকে ঘুরান এবং দেখুন স্টার্ট হয় কিনা। এ ধরণের পদ্ধতি একদমই নিরুপায় হয়ে না গেলে করা উচিত না। এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে বাইক প্রথম গিয়ারে রাখবেন না কারণ এই গিয়ারে কম্প্রেশন রেশিও বেশি যা স্টার্ট হতে বাঁধা প্রদান করবে।

বিভিন্ন মৌসুমে বাইক স্টার্টিং সমস্যাঃ

বাইক স্টার্ট নিয়ে মূলত সমস্যা দেখা যায় বর্ষাকালে এবং শীতকালে। বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা অনেক বেশি থাকে এবং বৃষ্টির মধ্যে চালানোর কারণে বিভিন্ন জায়গায় পানি ঢোকার সম্ভাবনা থাকে। অপরদিকে শীতকালে আর্দ্রতা থাকে অনেক কম এবং অপারেটিং টেম্পারেচার না পাওয়ার কারণে স্টার্ট হতে সমস্যা করে। এ সমস্যা মূলত হয় কার্বুরেটেড বাইকের ক্ষেত্রে, আধুনিক ফুয়েল ইঞ্জেকশন বাইকে এ ধরণের সমস্যা হয় না বললেই চলে। চলুন দেখা যাক এমন পরিস্থিতিতে করনীয়গুলো কিঃ

১। বৃষ্টির সময় রাস্তার মাঝে বাইক বন্ধ হয়ে গেলে চেষ্টা করুন আশেপাশে ছাউনি খুঁজে বের করতে। এবার প্রথম কাজ হচ্ছে স্পার্ক প্লাগে পানি ঢুকেছে কিনা চেক করা। যদি ঢুকে থাকে একটি শুকনা কাপড় দিয়ে প্লাগ এবং প্লাগওয়্যার মুছে দিন। বাইকে কিক স্টার্টার থাকলে বৃষ্টির সময় কিক দিয়ে স্টার্ট করার অভ্যাস করুন। এতে সেলফ স্টার্টার থেকে শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

২। যদি বর্ষার সময় বাইকের অ্যাক্সেলারেশন স্মুথ মনে না হয় তাহলে সম্ভাবনা আছে ফুয়েল ট্যাংকে পানি প্রবেশ করেছে। কার্বুরেটরের ওভারফ্লো স্ক্রুটি ঢিলা করে পানি মিশ্রিত পেট্রোল বের করে দিন। অনেক বাইকের ওভারফ্লো পাইপ ফ্রেমের নিচে থাকে যা সামান্য পানিতেই ডুবে যায়, এটি স্টার্টিং সমস্যার আরেকটি কারণ। পাইপটি কেটে একটু ছোট করে নিলে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই নিস্তার পাওয়া সম্ভব।

৩। শীতকালের সকালে বা কিছুক্ষন পর স্টার্ট না হওয়া কার্বুরেটেড বাইকের অতি সাধারণ একটি সমস্যা। দুই থেকে চারটি কিক দেয়ার পরও যদি বাইক স্টার্ট না হয় তাহলে আর কিক দিয়ে ওভারফ্লো করার প্রয়োজন নেই। ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাইক স্টার্ট করার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে চোক লিভার অন করে স্টার্ট করা। চোক লিভার টেনে দিলে ইঞ্জিনে কোন বাতাস প্রবেশ করে না এবং বাইক সহজেই স্টার্ট হয়ে যায়। চোক টানা অবস্থায় ১-২ মিনিট রেখে দিয়ে আস্তে আস্তে আবার অফ করে দিলেই বাইক অপারেটিং টেম্পারেচারে চলে আসবে। চোক দেয়া অবস্থায় কিক স্টার্ট করা উচিত না, এতে তেল ওভারফ্লো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কোন সমস্যা নিয়মিত দেখা গেলে বা বেশি সমস্যা হলে দেরি না করে আপনার বাইক ম্যানুফ্যাকচারারের অথোরাইজড সার্ভিস সেন্টারে যান এবং টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন। আপনার পথ চলা সুন্দর এবং নিরাপদ হোক। বাইক বাজারের সাথেই থাকুন।